• ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩, বৃহস্পতি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Hospital

রাজ্য

এক রেজিস্ট্রেশন নম্বর, দুই চিকিৎসক! শিশুমৃত্যুর তদন্তে ‘ভুয়ো ডাক্তারি’ নথির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

বর্ধমানের বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে সামনে এল চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর একাধিক চিকিৎসকের নামে ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধান।বর্ধমানের নবাবহাটের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চার বছরের এক শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। শিশুটির অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক সইদুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসক হিসেবে তাঁর রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে আসে বেশ কিছু অসঙ্গতি। এরপরই বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।তদন্ত সূত্রে জানা যায়, সইদুল হক চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার জন্য বিহারের একটি মেডিক্যাল কলেজের নথি পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে জমা করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই নথির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। মূলত ওই নথি সত্যিই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কি না, তিনি আদৌ ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাশ করেছিলেন কি নাসেই বিষয়টিই যাচাই করার চেষ্টা শুরু হয়।কিন্তু বিহারের ওই মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের জবাব আসতেই তদন্তে তৈরি হয় নতুন মোড়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সইদুল হক নামে কোনও ব্যক্তি তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাশ করেননি। ফলে তাঁর জমা দেওয়া শিক্ষাগত নথির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।এরই মধ্যে আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে আসে। অভিযোগ, একই চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্য এক চিকিৎসকের নামেও ব্যবহৃত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার এক চিকিৎসকের নথি যাচাই করতে গিয়ে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অস্তিত্ব সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়।একজন চিকিৎসকের নামে বরাদ্দ রেজিস্ট্রেশন নম্বর কীভাবে অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, তা নিয়েই এখন মূল প্রশ্ন। কারণ, চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইন্টার্নশিপ এবং সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই যাচাই প্রক্রিয়া পেরিয়েও যদি কোনও ব্যক্তি চিকিৎসা করার সুযোগ পেয়ে থাকেন, তা হলে গোটা ব্যবস্থার নজরদারি ও যাচাই-বাছাই নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।তদন্তকারীদের আশঙ্কা, ঘটনাটি হয়তো শুধুমাত্র একটি নার্সিংহোম বা একজন চিকিৎসকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম কিংবা অন্যান্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ভুয়ো বা জাল নথি ব্যবহার করে কেউ চিকিৎসা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।বিশেষ করে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর একাধিক ব্যক্তির নামে ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনও ব্যক্তি যদি ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি দেখিয়ে চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন, তা হলে তিনি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করেছেন, কতদিন ধরে চিকিৎসা করেছেন এবং তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে আরও কোনও রোগীর ক্ষতি বা অনিয়মের যোগ রয়েছে কি নাসেই প্রশ্নগুলিও এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।এই ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। কোনও চিকিৎসককে হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার আগে তাঁর ডিগ্রি, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করার কথা। সেই প্রক্রিয়ায় কোনও ফাঁক থেকে থাকলে, তা কীভাবে তৈরি হল এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।চার বছরের শিশুর মৃত্যুর মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তাই এখন সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্নরাজ্যে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন কতটা নির্ভুলভাবে যাচাই করা হয়?তদন্ত যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হতে পারে সইদুল হকের জমা দেওয়া নথির প্রকৃত সত্যতা, একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের নেপথ্যে কী রয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগ আছে কি না। আপাতত গোটা ঘটনায় তদন্তকারীদের নজর রয়েছে নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার দিকে।তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। তদন্তের ফলেই স্পষ্ট হবে, এই ঘটনায় আদৌ কোনও জালিয়াতির চক্র কাজ করেছে কি না এবং থাকলে তার পরিধি কতটা।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কলকাতা

এনআরএসে নয়, অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্ত! নার্সের মৃত্যু ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত, কী জানাল স্বাস্থ্যদপ্তর?

এনআরএস হাসপাতালের শৌচালয় থেকে নার্সের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়। মৃত নার্সের স্বামী ও পরিবারের দাবি মেনে এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে না। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মৃতার স্বামী রাহুল দাস এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন মেনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত হবে।নার্সের কীভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও অনুমান করা ঠিক হবে না। তাঁর কথায়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অনুমানের জায়গা নেই। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।ঘটনার তদন্তে আলাদা অভ্যন্তরীণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এনআরএস হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে তৈরি এই কমিটিতে হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান, এমএসভিপি, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রতিনিধি-সহ একাধিক বিভাগের প্রধানদের রাখা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।বুধবার রাতে এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের এইচডিইউতে কর্মরত ওই নার্সের দেহ বিভাগেরই শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, রাত আটটা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। রাত নটা নাগাদ এক রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার পর শৌচালয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়।এক জন জুনিয়র চিকিৎসক তাঁর খোঁজ শুরু করেন। শৌচালয়ের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে গ্রুপ ডি কর্মীদের ডেকে দরজা ভাঙা হয়। ভিতর থেকে নার্সকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।এরপর থেকেই নার্সের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, শৌচালয়ের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক বা মানসিক অবস্থার কী পরিস্থিতি ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শৌচালয় থেকে কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অভ্যন্তরীণ কমিটির রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
কলকাতা

এনআরএসের শৌচাগারে নার্সের দেহ! রাতের ডিউটির মাঝেই কী ঘটল, ঘিরে রহস্য

নীলরতন সরকার হাসপাতালে শৌচাগারের ভিতর থেকে এক নার্সের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতে দীর্ঘক্ষণ শৌচাগারের দরজা বন্ধ থাকার পর সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া না মেলায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে নার্সের দেহ উদ্ধার করে।প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, বুধবার ওই নার্সের রাতের ডিউটি ছিল। রাত আটটা নাগাদ তিনি হাসপাতালে কাজে যোগ দেন। সহকর্মীদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাত ১০টা ২০ মিনিট থেকে ১০টা ২৭ মিনিটের মধ্যে তিনি শৌচাগারে গিয়েছিলেন। এরপর বেশ কিছুটা সময় কেটে গেলেও তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেননি।দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়া না পেয়ে সহকর্মীরা শৌচাগারের দরজায় ডাকাডাকি শুরু করেন। ভিতর থেকে কোনও উত্তর না আসায় শেষ পর্যন্ত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে দরজা খোলার চেষ্টা করে। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে নার্সের দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।ঠিক কী কারণে ওই নার্সের মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা রয়েছে। এন্টালি থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।তদন্তকারীরা ওই নার্সের শেষ কয়েক ঘণ্টার গতিবিধি খতিয়ে দেখছেন। শেষ কার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল, মোবাইল ফোনে কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, সেই সব তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। পরিবারে কোনও অশান্তি বা ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।কর্মক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে সহকর্মীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরবর্তী তথ্যের দিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাজ্য

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও স্কুলের মিড-ডে মিল—খাদ্য খাতে বড় বরাদ্দ বৃদ্ধি রাজ্য সরকারের, ১ অগস্ট থেকে কার্যকর নতুন হার

নিজস্ব সংবাদদাতা: মূল্যবৃদ্ধির বাজারে হাসপাতালের ভর্তি রোগী এবং সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর এবং স্কুল শিক্ষা দফতর ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে পৃথক নির্দেশিকা জারি করে হাসপাতালের ফুল রাইস ডায়েট এবং পিএম পোষণ (মিড-ডে মিল) প্রকল্পে রান্নার খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। নতুন হার ১ অগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের খরচ প্রায় দ্বিগুণস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের জারি করা মেমো অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি রোগীদের জন্য ফুল রাইস ডায়েট বাবদ বরাদ্দ প্রতিদিন প্রতি রোগী ৫৬.৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে।সরকারের বক্তব্য, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং রোগীদের আরও উন্নত মানের খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ দফতরের অনুমোদনের পর এই সংশোধিত হার কার্যকর করা হচ্ছে।প্রাথমিক পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলেও বাড়ল রান্নার খরচঅন্যদিকে, স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বালবাটিকা (প্রি-প্রাইমারি) ও প্রাথমিক স্তরের সরকারি, সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে পিএম পোষণ প্রকল্পের অধীনে রান্নার খরচে রাজ্যের অংশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।এতদিন কেন্দ্রীয় প্রকল্প অনুযায়ী রান্নার খরচ ছিল প্রতি ছাত্রছাত্রী ৬.৭৮ টাকা। রাজ্য সরকার অতিরিক্ত ৩.২২ টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় মোট রান্নার খরচ বেড়ে প্রতি ছাত্রছাত্রী ১০ টাকা হবে। এই নতুন হারও ১ অগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকারের উদ্যোগসরকারি নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের রোগীদের উন্নত খাদ্য সরবরাহ এবং স্কুল পড়ুয়াদের পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজন নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।নতুন বরাদ্দ কার্যকর হলে সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের খাদ্যের মানোন্নয়ন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে মিড-ডে মিলের রান্নার ব্যয় নির্বাহে প্রশাসনের সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জুলাই ১৮, ২০২৬
রাজ্য

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ পরিদর্শনে চাঞ্চল্য! হাসপাতালের ভিতরে যা ধরা পড়ল, তারপরই বড় পদক্ষেপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আচমকা পরিদর্শনের পর বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হল। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং পরিষেবা নিয়ে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসার পর বারো জন কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চার জন ওয়ার্ড মাস্টার, চার জন নন-মেডিক্যাল সুপার, একজন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিস্টার, প্রসূতি বিভাগের দুই জন সিস্টার ইনচার্জ এবং একজন পরিষেবার মান নিয়ন্ত্রণ আধিকারিক।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আচমকা পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং বারান্দায় পরিচ্ছন্নতার অভাব লক্ষ্য করেন। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বারান্দায় বিড়াল ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সেই নির্দেশ মেনেই তদন্তের পর বারো জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারাসত মেডিকেল কলেজ আগে জেলা হাসপাতাল ছিল। এখনও পুরনো ভবনেই অনেক পরিষেবা চালাতে হচ্ছে। ফলে কিছু পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প তৈরি করে স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। খুব শীঘ্রই সেই প্রস্তাব পাঠানো হবে।বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই একাধিক সরকারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বারাসত মেডিকেল কলেজেও তিনি পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং পরিচ্ছন্নতার অবস্থা খতিয়ে দেখেন। এরপরই রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে আরও কঠোর নজরদারির ঘোষণা করেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিষেবার মান উন্নত করতে সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামীণ হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতালেও একই ব্যবস্থা চালু হবে। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বা স্যালাইন ব্যবহার বন্ধ করতে প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ দল হাসপাতালগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শন চালাবে।হাসপাতালে দালালচক্রের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে। যাঁদের কাছে সেই পরিচয়পত্র থাকবে না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

জুলাই ১০, ২০২৬
কলকাতা

হাসপাতালের ভিতরে কে দালাল, কে আসল কর্মী! এবার এক নজরেই ধরা পড়বে, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

হাসপাতাল থেকে দালালচক্র নির্মূল করতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এবার থেকে হাসপাতালগুলির উপর সরাসরি নজরদারি চলবে স্বাস্থ্যভবন থেকেই। দালালদের চিহ্নিত করতে নতুন পরিচয় ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাই কর্মী এবং অন্যান্য কর্মীদের জন্য আলাদা রঙের পরিচয়পত্র থাকবে। রোগীদের হাতে থাকবে এক ধরনের রঙিন ব্যান্ড এবং রোগীর পরিজনদের জন্য থাকবে অন্য রঙের ব্যান্ড। এই পরিচয়চিহ্নের বাইরে হাসপাতালের ভিতরে যাঁদের দেখা যাবে, তাঁদের পরিচয় যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর।স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, হাসপাতালের প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের জন্য আলাদা রঙের পরিচয় ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও রোগীর পরিজনদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে। হাসপাতালের নিরাপত্তা এবং পরিষেবা আরও স্বচ্ছ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ত্রিশ জুলাইয়ের মধ্যে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করার কাজ শেষ করতে হবে। স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলির পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হবে। হাসপাতালের ভিতরে অনিয়ম, ভুয়ো পরিচয়ে ঘোরাফেরা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের জন্য ল্যামিনেশন করা আলাদা পরিচয়পত্র তৈরি করা হবে। অতীতে হাসপাতালের ভিতরে ভুয়ো পরিচয়ে বিভিন্ন কাজ করার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতেই এই নতুন পরিচয় ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জুলাই ০৯, ২০২৬
রাজ্য

আরজি কর কাণ্ডে কড়া বার্তা বিজেপি সরকারের, তিন আইপিএসের সাসপেনশন আরও ১২০ দিন বৃদ্ধি, নতুন করে তদন্তে জোর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বহুল আলোচিত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুন মামলা। প্রশাসনিক স্তরে এই মামলার তদন্তকে আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল বিজেপি সরকার। আরজি কর-কাণ্ডের সময়ে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ পদে থাকা তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানো হয়েছে। সরকারের দাবি, ওই সময় তদন্ত ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে ওঠা একাধিক অভিযোগের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া চলবে।সাসপেন্ড হওয়া তিন আধিকারিক হলেন তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্ত এবং তৎকালীন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই আরজি কর মামলার প্রশাসনিক দিকগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সূত্রেই তিন আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার সেই নিলম্বনের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হল।সরকারি সূত্রের দাবি, শুধুমাত্র অপরাধের তদন্ত নয়, ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা, তথ্য পরিবেশন, অপরাধস্থল সংরক্ষণ এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এই তিন আধিকারিক যথাযথ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই কারণেই বিভাগীয় তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সাসপেনশন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর হয়ে সিবিআই ইতিমধ্যেই তিন আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গত মাসে তাঁরা পৃথকভাবে সিবিআই দফতরে হাজিরা দেন। তদন্তকারীরা তাঁদের বয়ান রেকর্ড করেন এবং ঘটনার সময় পুলিশের সিদ্ধান্ত, তদন্তের অগ্রগতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। সূত্রের খবর, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও তাঁদের ফের ডেকে পাঠানো হতে পারে।২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। কলকাতা পুলিশ অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করলেও তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে চলে আসা, পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশ, তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক এবং হাসপাতালের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত অসাধু চক্রকে আড়াল করার অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে।ঘটনার জেরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরে বিনীত গোয়েলকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেন। যদিও তিনি অন্য একটি প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল ছিলেন। কিন্তু সরকার বদলের পর তাঁর ভূমিকা নতুন করে তদন্তের আওতায় আসে।এই মামলায় বিতর্ক আরও বাড়ে ঘটনার প্রায় দুসপ্তাহ পরে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি, তবু সেখানে দেখা যায় বলে দাবি করা হয় যে, যেখান থেকে চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই সেমিনার হলে একাধিক বহিরাগত প্রবেশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ভিডিওটি সেমিনার হলের হলেও অপরাধস্থল সুরক্ষিত ছিল। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে।অন্যদিকে, অপরাধস্থলের চেহারা বদলে যাওয়া, সেমিনার হলের কাঠামোয় পরিবর্তন, রাতদখল কর্মসূচির রাতে ভাঙচুর এবং প্রমাণ সংরক্ষণে ব্যর্থতার মতো একাধিক অভিযোগের সঙ্গেও অভিষেক গুপ্তের নাম উঠে আসে। তদন্তকারীরা এখন সেই সমস্ত অভিযোগের নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখছেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আরজি কর মামলায় শুধুমাত্র অপরাধীদের বিচারের মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং ঘটনার সময় প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার করতে চাইছে বর্তমান সরকার। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই তিন আইপিএস আধিকারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি বিজেপি বিধায়ক! অস্ত্রোপচারের পর কী জানালেন পাপিয়া অধিকারী?

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। শনিবার তাঁকে বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একই দিন তাঁর ডান হাতের একটি আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিধায়কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় হাসপাতালের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর জানানো হয়েছে।পাপিয়া অধিকারী জানান, তাঁর ডান হাতের মধ্যমা আঙুলে সংক্রমণ হয়েছিল। সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আঙুল ফুলে যায় এবং তীব্র যন্ত্রণার কারণে হাত নাড়াতেও অসুবিধা হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত। সেই কারণেই আর দেরি না করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে অস্ত্রোপচার চলে।অস্ত্রোপচারের পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে পাপিয়া অধিকারী বলেন, তিনি এখন অনেকটাই ভালো আছেন। একই সঙ্গে বাঙুর হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবারও প্রশংসা করেন তিনি। বিধায়কের কথায়, টালিগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় এই সরকারি হাসপাতাল তাঁর বাড়ির সবচেয়ে কাছের। এখানকার চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের কর্মীরা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করেছেন। অস্ত্রোপচার কক্ষের পরিষেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও তাঁর ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।পাপিয়া অধিকারীর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন দলের সহকর্মী এবং অনুগামীরা। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছেন তিনি। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
দেশ

ভোরের ঘুম ভাঙল আগুনে! হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত অন্তত ৪

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিহারের একটি হাসপাতালে আগুন লেগে মৃত্যু হল অন্তত চার জনের। ভয়াবহ এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় চারটে নাগাদ মুজফ্ফরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আচমকা আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, চিকিৎসক এবং কর্মীদের মধ্যে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ছতলায় থাকা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো তলা। দমকলকর্মীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।তবে সব রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের অনেকেই গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অন্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সঠিক কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।মুজফ্ফরপুর দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। বহু রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে বের করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতার কারণে কয়েকজনকে আর বাঁচানো যায়নি।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে আগুন লাগল এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জুন ০৪, ২০২৬
কলকাতা

ওপরের নির্দেশে অভিষেকের চিকিৎসা হচ্ছে না! বিস্ফোরক অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে সেখানে ঠিকমতো চিকিৎসা করা হচ্ছে না বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, উপর মহল থেকে নির্দেশ আসার কারণেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।হাসপাতাল থেকে অভিষেককে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, আমরা এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি। এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। উপর থেকে বলে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা না করতে। একই অভিযোগ তিনি একাধিকবার করেন। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।এরপর হাসপাতাল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বের করে আনা হয়। তাঁকে বেশ ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। ধীরে ধীরে গাড়িতে ওঠেন তিনি। গাড়িতে তাঁর পাশে বসেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। গাড়িতে বসে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে নিতে দেখা যায় অভিষেককে। তারপর তাঁকে নিয়ে অন্য একটি হাসপাতালে রওনা দেয় গাড়ি।এর আগে সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়, ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। হামলার পরেও তিনি নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন।সেই সময় অভিষেক বলেন, ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। সোনারপুরের এই ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু উচ্চ আদালত নয়, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাব।পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিষেককে নিরাপদে সেখান থেকে বের করে আনে। এরপর তাঁকে চিকিৎসার জন্য বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মে ৩০, ২০২৬
রাজ্য

মাঝরাতে সরকারি হাসপাতালে হানা স্বাস্থ্যসচিবের! দেখে হতবাক চিকিৎসকরা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের মাত্র বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন মোডে নামল স্বাস্থ্যদপ্তর। শনিবার গভীর রাতে শহরের পাঁচটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ করেই পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। এই আকস্মিক সফর ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় হাসপাতালগুলিতে। স্বাস্থ্যদপ্তরের বার্তা স্পষ্ট, শুধু নির্দেশ নয়, এবার বাস্তবে কাজ দেখতে চায় নতুন সরকার।শনিবার রাত প্রায় বারোটার সময় নীল রঙের টি-শার্ট পরে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছন স্বাস্থ্যসচিব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ মানসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় এবং সহকারী সুপার দৈপায়ন বিশ্বাস। ট্রমা কেয়ার থেকে শুরু করে জেনারেল মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি। রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানতে চান।পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কড়া নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যসচিব। তিনি বলেন, কোথাও যেন ময়লা না থাকে। প্রতিটি ওয়ার্ডের বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করারও নির্দেশ দেন তিনি।এরপর রাতেই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং এসএসকেএম হাসপাতালেও যান স্বাস্থ্যসচিব। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে যেসব রোগী বেড না পেয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত বেডের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।স্বাস্থ্যসচিব আরও নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালগুলিতে লাইভ বেড স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সেই স্ক্রিনে কোন হাসপাতালে কত বেড খালি রয়েছে, তা দেখা যাবে। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালের খালি বেডের তথ্যও সেখানে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালগুলিতে পানীয় জলের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যসচিব। তিনি জানতে চান, রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য দেওয়া জল আদৌ পানযোগ্য কি না। প্রতি মাসে সেই জলের মান পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভাকে প্রতি সপ্তাহে পানীয় জলের গুণমান পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।উল্লেখ্য, শুক্রবার এসএসকেএমের একাডেমিক ভবনে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দালালরাজ বন্ধ করা, রোগীদের রেফার কমানো এবং কাউকে যেন চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে না হয়, সেই বিষয়ে একাধিক কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই স্বাস্থ্যসচিবের এই রাতের পরিদর্শন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

মে ১৭, ২০২৬
রাজ্য

আর জি করে নতুন বিস্ফোরণ! সিবিআই অফিসার সীমা পাহুজাকেই তদন্তের আওতায় আনার দাবি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘিরে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার সরাসরি সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজার ভূমিকাতেই প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু প্রশ্ন তোলাই নয়, তাঁকে তদন্তের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিও তুলেছেন তিনি।শনিবার আচমকাই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমার্জেন্সি ভবনে হাজির হন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, হাসপাতালের এই ভবনেই ওই তরুণী চিকিৎসকের উপর নৃশংস অত্যাচার চালিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।অভিজিৎবাবুর দাবি,তদন্ত চলাকালীন এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘর রয়েছে যা প্রায় দুবছর ধরে তালাবন্ধ ও সিল করা অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁর বক্তব্য, ওই ঘর থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বা অপরাধসংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অথচ সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা সেই ঘর খুলে দেখার প্রয়োজনই মনে করেননি।তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি, এমন একটি ঘর রয়েছে যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইনক্রিমিনেটিং তথ্য মিলতে পারত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এখনও পর্যন্ত সেটি খোলা হয়নি। আমি নিজে গিয়ে দেখলাম, ঘরটি এখনও সিল করা অবস্থাতেই রয়েছে।এতেই শেষ নয়। আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে অভিজিৎ দাবি করেন, ঘটনার রাতেই হাসপাতালের একটি সিঁড়ি দিয়ে একটি মৃতদেহ নামানোর দৃশ্য এক নার্স মোবাইলে রেকর্ড করেছিলেন। পরে সেই ভিডিও নাকি সিবিআই অফিসার সীমা পাহুজা নিজের কাছে রেখে দেন এবং সংশ্লিষ্ট নার্সকে ভিডিওটি ফোন থেকে মুছে ফেলতে বলেন। এমনকি তাঁকে ভয়ও দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়,নার্সকে বলা হয়েছিল ভিডিওটি ডিলিট না করলে বিপদে পড়তে হবে। তিনি বাধ্য হয়ে ভিডিওটি মুছে দেন এবং কপি তুলে দেন সীমা পাহুজার হাতে। তারপর থেকে সেই ভিডিও আর প্রকাশ্যে আসেনি।তাঁর দাবি, ওই সিঁড়ি সরাসরি হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগে পৌঁছয় এবং সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট প্যাসেজ দিয়ে সেই জায়গায় যাওয়া যায়, যেখানে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। অথচ এই সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ রুট নিয়ে তদন্তে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।এই প্রসঙ্গে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বিজেপি সাংসদ বলেন,এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন তদন্তকারী অফিসার এগুলো দেখলেন না? কে তাঁকে প্রভাবিত করেছিল? কেন সত্য সামনে আনার চেষ্টা হয়নি?তিনি আরও দাবি করেন, সীমা পাহুজার ভূমিকা নিছক গাফিলতি নয়, বরং প্রমাণ লোপাটের সঙ্গে যুক্ত থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর মতে, গোটা সিবিআই সংস্থাকে দায়ী করা ঠিক হবে না, তবে নির্দিষ্ট ওই অফিসারের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি।এদিকে রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফের খুলছে আর জি কর কাণ্ডের তদন্ত-ফাইল। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস অফিসারকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মামলার শুনানির জন্য বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ও বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চে এবার এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে।এই আবহেই আর জি করে গিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।এদিকে হাসপাতাল প্রশাসনও কড়াকড়ি শুরু করেছে। হাসপাতাল চত্বরে বেআইনি পার্কিং রুখতে নির্দেশ জারি হয়েছে। পাশাপাশি দালালচক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো, রোগী ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে বেআইনি টাকা আদায়ের অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে, আর জি কর কাণ্ডে তদন্তের মোড় যে আরও নাটকীয় দিকে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং সিবিআই এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই।

মে ১৭, ২০২৬
রাজ্য

রামপুরহাট হাসপাতাল পরিদর্শনে বিধায়ক, কড়া নির্দেশ ধ্রুব সাহার

বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা বৃহস্পতিবার রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীর সুপারভাইজার এবং প্রিন্সিপ্যালকে ধমক দেন।ধ্রুব সাহা বলেছেন, প্রিন্সিপ্যাল ঠাণ্ডা ঘরে বসে থাকেন, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেন না। ওয়ার্ড ও শৌচালয়ের অবস্থা খারাপ। রোগীদের পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসছে।এদিন বিধায়ক কড়া নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। তিনি প্রিন্সিপ্যালকে স্পষ্ট বলেন, ঠাণ্ডা ঘরে বসে না থেকে হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর নজর দিন। নিরাপত্তারক্ষীর সুপারভাইজারকেও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির জন্য সতর্ক করেন বিধায়ক ।গত কয়েক মাস ধরে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে নোংরা পরিবেশ, রোগী হয়রানি ও চিকিৎসায় গাফিলতির বিভিন্ন অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়কের কাছে নালিশ জানিয়েছিলেন। তার পরেই আজ বিধায়কের এই সারপ্রাইজ ভিজিট।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

মে ১৪, ২০২৬
কলকাতা

আনন্দলোক হাসপাতালে আগুনে হাহাকার! স্যালাইন হাতে রাস্তায় রোগীরা, ছড়াল চরম আতঙ্ক

সল্টলেকের আনন্দলোক হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চরম আতঙ্ক ছড়াল। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় হঠাৎ করেই আগুন লাগে বলে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা ভবন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে।প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এসির শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন। আগুনের উৎসস্থল খুঁজে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কেউ ভেতরে আটকে আছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন দমকল কর্মীরা।হাসপাতালের লিফট আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশের আনন্দলোকেরই DL ব্লকের অন্য একটি ভবনে তাঁদের স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক রোগীকে স্যালাইন হাতে নিয়েই বাইরে রাস্তায় বসে থাকতে দেখা যায়, যা নিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়ে।একের পর এক ওয়ার্ড ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

এপ্রিল ২১, ২০২৬
বিদেশ

কাবুলে রক্তাক্ত রাত, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন রশিদ খানরা

পবিত্র রমজান মাসে কাবুলের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এই হামলায় অন্তত চারশো জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে হাসপাতালের বড় অংশ। আগুনে জ্বলতে থাকে পুরো এলাকা। এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আফগানিস্তানের একাধিক ক্রিকেটার।রশিদ খান, মহম্মদ নবি এবং নবীন উল হক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তারা সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে সোশ্যাল মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই ধরনের হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। রমজানের মতো পবিত্র মাসে এমন ঘটনা আরও বেশি কষ্টদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন তারা।নবীন উল হক এক পোস্টে লেখেন, তিনি ইজরায়েল এবং পাকিস্তানের মধ্যে কোনও পার্থক্য দেখছেন না। এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। রমজান মাসে মুসলিম দেশ হয়েও এমন হামলা চালানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।রশিদ খানও নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান, কাবুলের হাসপাতালে হামলার খবর শুনে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তিনি এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, রাষ্ট্রসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির এই ঘটনার তদন্ত করা উচিত। এই কঠিন সময়ে দেশের মানুষের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।মহম্মদ নবি তার পোস্টে লেখেন, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ। তাদের উপর এই হামলা অত্যন্ত নিষ্ঠুর। তিনি জানান, অনেক মা তাদের সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু সেই সন্তানরা আর বাড়ি ফিরতে পারেনি।উল্লেখ্য, এর আগেও পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের তরুণ ক্রিকেটারদের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আফগান ক্রিকেটাররা। এমনকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি প্রতিযোগিতাও বয়কট করা হয়েছিল।এই নতুন হামলার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্ক আদৌ বজায় রাখা হবে কি না। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

মার্চ ১৭, ২০২৬
বিদেশ

কাবুলে ভয়াবহ বিমান হামলা, হাসপাতালে আগুনে পুড়ে মৃত্যু অন্তত চারশো মানুষের

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তারই মধ্যে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান একটি হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় চিকিৎসক সহ অন্তত চারশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আড়াইশোরও বেশি মানুষ। সোমবার রাতে পরপর বিস্ফোরণে হাসপাতালটি কার্যত আগুনে পুড়ে যায়।আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাবুলের ওই হাসপাতালে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলা আফগানিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ। এর আগে দুই হাজার একুশ সালে কাবুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলায় একশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, কিন্তু এবার তার থেকেও বড় বিপর্যয় ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।গত মাস থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। আফগানিস্তানের অভিযোগ, পাকিস্তান বারবার সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই হাসপাতাল হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনও হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। তাদের দাবি, জঙ্গি ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত সামরিক স্থাপনাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখপাত্র কাবুলের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।আফগানিস্তান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সোমবার রাত প্রায় নয়টা নাগাদ এই হামলার ঘটনা ঘটে। যে হাসপাতালে হামলা হয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল। সেই হাসপাতালেই এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে দেহ উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে।এর আগেও পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কান্দাহার বিমানবন্দর, পাক্তিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং কাবুলের বিভিন্ন এলাকায় হামলার কথা জানা গেছে। কান্দাহার শহরে তালিবান গোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়েই এখন নজর সকলের।

মার্চ ১৭, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূলের বিজয় মিছিলে কিশোরীর মৃত্যু, ৬ মাস পর চরম সিদ্ধান্ত তামান্নার মায়ের

ছয় মাস আগে তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমায় প্রাণ হারিয়েছিল নাবালিকা তামান্না খাতুন। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিন। অবশেষে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হল তাঁকে। বর্তমানে তিনি শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।পরিবারের দাবি, মেয়ের খুনের ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন। এখনও সব অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়নি। এই অনিশ্চয়তা এবং লাগাতার আতঙ্কের জেরেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে খাবার খাওয়ার পর সাবিনা ইয়াসমিন অতিরিক্ত কয়েকটি ঘুমের ওষুধ খান। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে পলাশী মীরা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৩ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের বিজয় উৎসব চলাকালীন বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় তামান্না খাতুনের। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, মোট অভিযুক্তের সংখ্যা আরও বেশি এবং অনেকেই এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা আদালতে চললেও বিচার আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে পরিবারে সংশয় রয়েছে।তামান্নার পরিবারের অভিযোগ, যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা জামিনে ছাড়া পেয়ে গেলে ফের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের দিক থেকে নানা হুমকিও আসছে বলে দাবি। এই আতঙ্কেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তামান্নার মা।তামান্নার কাকা রবিউল শেখ বলেন, মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই সাবিনা ইয়াসমিন শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। নিয়মিত ওষুধ খেতেন। এখনও অনেক অভিযুক্ত ধরা পড়েনি। যাঁরা ধরা পড়েছেন, তাঁরা জামিন পেলে ফের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এই ভয় আর চাপই তাঁকে চরম অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
রাজ্য

মায়ের কোল থেকে শিশুচুরি, প্রশ্নের মুখে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সিসিটিভি দেখে খোঁজ পুলিশের

ভরদুপুরে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে মায়ের কোল থেকে ১১ দিনের কন্যা শিশুকে চুরি করে চম্পট। এই ঘটনার পর মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় মালদার মোথাবাড়ির বাঙ্গিটোলা সরকারি গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা। সোমবার দুপুর নাগাদ এমন ঘটনার জেরে হাসপাতাল চত্ত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েকে না পেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই নবমাতৃকা মনিকা বিবি। পরে স্থানীয়রা জল ছিটিয়ে ও সান্ত্বনা দিয়ে তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন।গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে মনিকা বিবি মোথাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হাসপাতালে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, এক মধ্যবয়স্ক মহিলা মনিকার কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সেই ছবি সংগ্রহ করে আশপাশের সব থানায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মোথাবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলতানটোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের ও মনিকা বিবির সদ্যোজাত কন্যা সন্তান শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এদিন হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আউটডোরের বেঞ্চে বসে ছিলেন মনিকা। ওই সময় শিশুটি কান্না শুরু করলে একটি অচেনা মহিলা এগিয়ে এসে বলেন, তিনি নাকি শিশুর কান্না থামাতে সাহায্য করবেন। শিশুকে কোলে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মনিকা চিকিৎসকের ডাকে এগিয়ে যান। আর সেই সুযোগেই শিশুকে নিয়ে গা-ঢাকা দেয় ওই মহিলা।মনিকা অভিযোগে জানান, মেয়ের ঠান্ডা লেগেছিল, খুব কান্না করছিল। ওই মহিলা বলেছিল কোলে নিয়ে চুপ করাবে। আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে যেতেই সে আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। একই অভিযোগ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও। শিশুটির কাকা আশরাফুল হক বলেন, সরকারি হাসপাতালে কোনও নিরাপত্তা নেই। ভরদুপুরে বাচ্চা চুরি হয়ে গেল! এখানে যে এমন অপরাধ চক্র সক্রিয়, তা বুঝতেই পারিনি।মোথাবাড়ি থানার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানান, সিসিটিভি পরীক্ষা করেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আশেপাশের থানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। থানা এলাকার বিশেষ নজরদারি চলছে কারণ ওই হাসপাতাল থেকে খুব কাছেই গঙ্গার ওপারে ঝাড়খণ্ডের সীমানা। কালিয়াচক এলাকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের মুখ স্পষ্ট দেখা গেয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।মালদা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, ঘটনাটি উদ্বেগজনক। পুলিশ তদন্ত করছে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গুর। দিনে-দুপুরে এত লোকজনের সামনে থেকে শিশু চুরি। এমন ঘটনা প্রমাণ করে হাসপাতালে পাহারা বা নজরদারির কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বহু রোগীর আত্মীয়ই বলছেন, চুরি চক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব নবজাতককে উদ্ধার করা এবং অভিযুক্ত মহিলাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা। ইতিমধ্যেই ছবি ও তথ্য সব থানায় পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করার আশাতেই ব্যাকুল পরিবার।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
বিনোদুনিয়া

চলে গেলেন ধর্মেন্দ্র! বিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন

ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি তারকা ধর্মেন্দ্র আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হি-ম্যান নামে পরিচিত এই মহাতারকা। যদিও পরিবার প্রথমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, দুপুর থেকেই মুম্বইয়ের জুহুর বাড়ির বাইরে অস্বাভাবিক নড়াচড়ায় জোরালো হয় আশঙ্কা। দুপুরের পর তাঁর বাড়ি থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্স বেরিয়ে যায়, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সানি দেওল, ঈশা দেওল ও হেমা মালিনীকে দেখা যায় পাওয়ান হান্স শ্মশানে পৌঁছতে। এরপর অমিতাভ বচ্চন ও অভিষেককে দেখা যায় সাদা পোশাকে ভিলে পার্লের শ্মশানের সামনে। আমির খান পৌঁছন ধর্মেন্দ্রের বাসভবনে।কিছুদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ধর্মেন্দ্র। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাড়িতে এনে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছিলেন। এক সময় শারীরিক অবস্থার খানিক উন্নতি হলেও শেষপর্যন্ত অসুস্থতাকে জয় করতে পারলেন না তিনি।মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে কিংবদন্তির প্রয়াণের খবর। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ঢেউ তোলা শোকবার্তা, চলচ্চিত্র জগত শোকস্তব্ধ। পরিচালক করণ জোহর, যাঁর ছবিতে রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি-তে সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন ধর্মেন্দ্র, ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা লিখে জানান, একটা যুগের অবসান। ভারতীয় সিনেমার প্রকৃত কিংবদন্তি, অপরূপ ব্যক্তিত্ব, সবচেয়ে বড় কথাঅত্যন্ত ভালো মানুষ। আজ আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যে শূন্যতা তৈরি হল, তা কোনওদিন পূরণ হবে না।ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায় রচনা করে গেলেন ধর্মেন্দ্র। ছয় দশকের টানা সাফল্য, তিনশোরও বেশি ছবি, আর কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়জয়সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন বলিউডের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারে রয়েছেন দুই স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও হেমা মালিনী এবং সন্তানসানি দেওল, ববি দেওল, বিজেতা, অজিতা, ঈশা দেওল ও আহানা দেওল।এ মুহূর্তে চলছে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। চলচ্চিত্র দুনিয়ার বন্ধু, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য এবং অগণিত শুভানুধ্যায়ী ভিড় জমিয়েছেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। মুম্বইয়ের বাতাসে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে একটি কথাইএভাবেই কি সত্যিই শেষ হয়ে গেল ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একটির অধ্যায়?

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
কলকাতা

হাসপাতালে রোগীর পরিবারকে প্রতারিত করার ফাঁদ—ধরা পড়তেই বিস্ফোরক তথ্য, মাথা ঘুরে গেল পুলিশের

সরকারি হাসপাতালে দালালচক্র নির্মূলের দাবি বহুদিনের। অথচ কলকাতার দুই প্রধান স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল পুরনো সেই দাপটই। মেডিক্যাল কলেজ ও SSKMদুটি হাসপাতালেই রোগীর আতঙ্ক বাড়িয়ে আবার সক্রিয় হয়েছে দালাল চক্র। গত শুক্রবার সন্ধেয় সাদা পোশাকে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের আকস্মিক হানাতেই ধরা পড়ল এই নেটওয়ার্কের দুই সক্রিয় সদস্য।মেডিক্যাল কলেজ থেকে ধরা হয় সচিন রাউথ নামে এক ব্যক্তিকে। অভিযোগ, তিনি রোগীর পরিবারের কাছে ঘোরাফেরা করে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা তুলছিলেন। চিকিৎসাপরামর্শ দেওয়ার নামে তাঁকে আগে থেকেই নজরে রেখেছিল পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা পড়ে তিনি।অন্যদিকে SSKM হাসপাতাল থেকে পাকড়াও করা হয়েছে গোলাম রসুল নামে আরও এক দালালকে। রোগীদের ভিড়ের মাঝে ছদ্ম পরিচয়ে ঘুরে বেড়িয়ে তিনি নানাভাবে টাকা আদায় করতেন বলে অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, তিনি বহিরাগতই ছিলেন। গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক লাগছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশের গোপন নজরদারিতে তার জাল শেষমেশ ভেঙে পড়ে।সবচেয়ে বড় প্রশ্নমুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও কীভাবে সরকারি হাসপাতালের ভিতর এমন দালালচক্রের দাপট এতটা প্রকাশ্যে চলল? গত মাসেই SSKM হাসপাতালের বহিরাগত প্রবেশ ও CCTV নজরদারি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সেই সময়ই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, হাসপাতালের ভেতরে কারা ঢুকছেবেরোচ্ছে তার বিশেষ খতিয়ান রাখতে। তবু কীভাবে এসব চক্র ফের সক্রিয় হল, তা এখন তদন্তের মুখ্য দিক।দুই অভিযুক্তকেই আজ আদালতে পেশ করা হবে। তাঁদের কাছ থেকে আরও তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ মনে করছে, তাঁদের পিছনে আরও বড় চক্র লুকিয়ে থাকতে পারে। হাসপাতাল চত্বরে তাদের ম্যাপিং শুরু করেছে তদন্তকারী দল।কলকাতার দুই সর্বাধিক ব্যস্ত সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের এই নতুন সক্রিয়তা রোগীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছেএবার কি সত্যিই কঠোর পদক্ষেপ করবে প্রশাসন?

নভেম্বর ২২, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় আপডেট, ১৭ সেপ্টেম্বর কাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩,০০০ টাকা? অতিরিক্ত ১০ লক্ষ মহিলা পাবেন সুবিধা

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বড় আপডেট। সেপ্টেম্বর মাসের ৩,০০০ টাকার কিস্তি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা পড়বে। ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে অন্নপূর্ণা দিবস হিসেবেও পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার খবর অনুযায়ী, অগস্টে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরের কিস্তিতে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে আরও প্রায় ১০ লক্ষ মহিলা এই কিস্তির আওতায় আসবেন।মাসে কত টাকা মিলবে?২০২৬ সালের জুন মাসে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে উপভোক্তার আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা বাসিন্দারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। স্থায়ী সরকারি চাকরিতে থাকা এবং কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়মিত বেতন বা পেনশন পাওয়া মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরাও বাদ পড়বেন। পাশাপাশি আয়করদাতারাও এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নন।১৭ সেপ্টেম্বর কারা টাকা পাবেন?সেপ্টেম্বরের কিস্তির জন্য উপভোক্তার নাম যোগ্য তালিকায় থাকা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যের মধ্যে গরমিল, DBT সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য কোনও তথ্যগত ত্রুটি থাকলে টাকা জমা পড়তে দেরি হতে পারে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তথ্যের ভুলের কারণে কিছু উপভোক্তার টাকা আটকে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।তাই যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগী, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে কি না এবং আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ সঠিক রয়েছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের ৩,০০০ টাকা ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আবেদন ও স্ট্যাটাস সংক্রান্ত তথ্যও নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে জানা যায়।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

১০০ কেজি সোনার দুর্গা! বাংলার বুকে এবার পুজোর সেরা আয়োজন, সোনার দুর্গাকে ঘিরে তুমুল আগ্রহ

দুর্গাপুজোয় এবার নজরকাড়া আয়োজন শিলিগুড়িতে। নিউ জলপাইগুড়ির সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটির দাবি, এ বছর তাদের প্রতিমা এবং দুর্গা পরিবারের অন্যান্য দেবদেবীকে সাজানো হবে ১০০ কেজি সোনার গয়নায়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় কোনও পুজো কমিটির পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ এই প্রথম বলে দাবি তাঁদের।এবার সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো পা দিতে চলেছে তাদের ৬৪তম বর্ষ। প্রতি বছরই নতুন আকর্ষণের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে এই পুজো। মঙ্গলবার আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে পুজো কমিটির সভাপতি কাঞ্চন রায় জানান, এ বছর দুর্গা প্রতিমা এবং পরিবারের অন্যান্য প্রতিমাকে ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় এর আগে কোনও পুজোয় এত বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।বছরের পর বছর নিউ জলপাইগুড়ির গেট বাজার এলাকার কাছে রেলওয়ে ইনস্টিটিউট গ্রাউন্ডে এই পুজোর আয়োজন হয়ে আসছিল। তবে বর্তমানে রেল কর্তৃপক্ষ ওই মাঠকে ক্রিকেট মাঠ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। সেই কারণে এ বছর পাশের একটি জমিতে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। জমিটি নিউ জলপাইগুড়িতে অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের দফতরের কাছেই অবস্থিত।পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি নামী গয়না প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতা সংস্থা প্রতিমার জন্য প্রয়োজনীয় সোনার গয়না সরবরাহ করবে। এত বিপুল পরিমাণ সোনা থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুজো প্রাঙ্গণের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি প্যান্ডেলে মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।দর্শনার্থীদেরও প্রতিমার খুব কাছে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিমার প্রায় আট ফুট আগে ব্যারিকেড তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সশস্ত্র রক্ষীদেরও মোতায়েন করা হবে।পুজো কমিটির সভাপতি কাঞ্চন রায় জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। সোনার গয়না সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুজোর দিনগুলিতে গোটা এলাকা সিসিটিভির নজরদারিতে রাখা হবে। ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সজ্জিত দুর্গা প্রতিমা ও দুর্গা পরিবারের অন্যান্য দেবদেবীকে দেখতে এবার শিলিগুড়ির এই পুজোয় বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

ফের কমল সোনার দাম, কলকাতায় ২৪ ক্যারেটের দর জানলে চমকে উঠবেন

Gold Price Today: সোনার দামে ফের পতন। একদিন স্থিতিশীল থাকার পর টানা তৃতীয় দিনের মতো কমল হলুদ ধাতুর দাম। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দরে চাপ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধিও বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে মার্কিন ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে, এমন আশঙ্কায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশের কথা। ফলে ওই সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের।গত তিন দিনে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম মোট ১,৪২০ টাকা কমেছে। একই সময়ে ২২ ক্যারেট সোনার দর কমেছে ১,৩১০ টাকা। বুধবারও ২৪ ও ২২ ক্যারেটদুই ধরনের সোনার দাম ১০ টাকা করে কমেছে।কলকাতায় আজকের সোনার দামকলকাতায় ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৫৩,১৬০ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪০,৩৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১,১৪,৮৭০ টাকা। অর্থাৎ ১৮ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দর ১.১৫ লক্ষ টাকার সামান্য নিচে।দেশের অন্যান্য বড় শহরেও সোনার দরে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। দিল্লিতে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৩,৩১০ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৪০,৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ১,১৫,০২০ টাকা। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেটের দাম ১,৫৩,১৬০ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৪০,৩৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ১,১৪,৮৭০ টাকা।পাটনা ও আহমেদাবাদে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৩,২১০ টাকা। সেখানে ২২ ক্যারেটের দর ১,৪০,৪৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১,১৪,৯২০ টাকা। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৩,৩১০ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৪০,৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ১,১৫,০২০ টাকা।তবে চেন্নাইয়ের ক্ষেত্রে ২৪ ক্যারেট সোনার দরে দেওয়া তথ্যে সংখ্যাগত অসঙ্গতি রয়েছে। সেখানে ২২ ক্যারেটের দাম ১,৪০,৩৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১,১৮,০৯০ টাকা। তবে কেনার আগে স্থানীয় বাজার বা বিক্রেতার কাছ থেকে ২৪ ক্যারেটের বর্তমান দর যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।চার দিন পর কমল রুপোর দামসোনার পাশাপাশি রুপোর দামেও বুধবার কিছুটা পতন দেখা গিয়েছে। টানা চার দিন স্থিতিশীল থাকার পর এক কেজি রুপোর দাম ১০০ টাকা কমেছে।দিল্লিতে এক কেজি রুপোর দাম এখন ২,৪৪,৯০০ টাকা। কলকাতা ও মুম্বইয়েও একই দরে রুপো বিক্রি হচ্ছে বলে দেওয়া হয়েছে। তবে চেন্নাইয়ে রুপোর দাম তুলনামূলক বেশিএক কেজি ২,৪৯,৯০০ টাকা। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর এক কেজি রুপোর দাম ৫,০০০ টাকা বেড়েছিল। পরের দিন, অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর, ফের এক কেজিতে ১০,০০০ টাকা কমেছিল। বুধবারের পতনের ফলে রুপোর বাজারেও ফের কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেল।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

৪০ বছরের পুরনো গৌরব ফেরানোর উদ্যোগ! বক্সার জঙ্গলে রাজ করতে আনা হচ্ছে বাঘিনী

বাঘশূন্য বক্সার জঙ্গলে ফের বাঘের সংসার গড়ার প্রস্তুতি শুরু। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনীকে বক্সা টাইগার রিজার্ভে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বন দপ্তর। সেই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই ১৫ জনের একটি বিশেষ দল বিহারে পৌঁছেছে। বাঘিনীকে নিরাপদে নিয়ে আসার জন্য বিশেষ আম্বুল্যান্স এবং খাঁচাও সঙ্গে পাঠানো হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তার আগে বাঘিনীকে বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে নিরাপদে সরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বন দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের আগে ঘুমপাড়ানি গুলি প্রয়োগ করে বাঘিনীকে কাবু করা হবে। এরপর বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে তাকে বক্সার দিকে নিয়ে আসা হবে।বাঘিনীকে নিয়ে আসার সময় তৈরি করা হবে সবুজ করিডর। অর্থাৎ যাতায়াতের পথে যাতে কোনও ধরনের বাধা বা বিলম্ব না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। বক্সা টাইগার রিজার্ভে পৌঁছনোর পর সরাসরি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে না তাকে। প্রথমে বিশেষ ভাবে তৈরি এনক্লোজারে রাখা হবে। সেখানে কয়েক দিন তার গতিবিধি, শারীরিক অবস্থা এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নজরে রাখা হবে।এরপর সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ২ অক্টোবর বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাঘিনীকে জঙ্গলে ছাড়ার এই বিশেষ অনুষ্ঠান হবে আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখানে সাধারণ মানুষের জন্যও অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা থাকবে। জঙ্গলের ভিতরে বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে প্যারেড গ্রাউন্ডে দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ।বনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের বাঘিনীকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে। জঙ্গলে বাঘিনী ছাড়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দেখতে পারবেন।বক্সা টাইগার রিজার্ভের সঙ্গে বাঘের ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরনো। ১৯৮২ সালে আলিপুরদুয়ারের এই বনাঞ্চল দেশের ১৫তম বাঘ সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেই সময় বক্সার জঙ্গলে ২০টিরও বেশি বাঘ থাকার রেকর্ড ছিল। পাহাড় এবং সমতল মিলিয়ে প্রায় ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বনাঞ্চল।কিন্তু সময়ের সঙ্গে বক্সার জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা কমতে কমতে একসময় শূন্যে পৌঁছয়। বর্তমানে বক্সা টাইগার রিজার্ভে স্থায়ী ভাবে বসবাসকারী কোনও বাঘ নেই। যদিও গত কয়েক বছরে ভুটানের দিক থেকে বক্সার জঙ্গলে বাঘের যাতায়াতের ছবি ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফলে বাঘের জন্য বক্সার জঙ্গল এখনও উপযুক্ত আবাসস্থল কি না, তা নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বনকর্তারা।এই পরিস্থিতিতে বক্সা টাইগার রিজার্ভে ফের বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে বাঘ এনে তাদের বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বন দপ্তরের। সেই পরিকল্পনারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বাঘিনী আনা হচ্ছে।এখন নজর ২ অক্টোবরের দিকে। বিশেষ দল, খাঁচা, আম্বুল্যান্স এবং নিরাপত্তার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাঘিনী বক্সার পরিবেশে কী ভাবে মানিয়ে নেয় এবং ভবিষ্যতে সেখানে বাঘের স্থায়ী প্রজনন সম্ভব হয় কি না, তার উপরই এই উদ্যোগের পরবর্তী সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
বিদেশ

মক্কা কি সত্যিই নিশানায়? ড্রোন হামলার দাবি নিয়ে মুখোমুখি সৌদি ও হাউথি

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথি এবং সৌদি আরবের সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সৌদির দাবি, মঙ্গলবার পবিত্র শহর মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মক্কার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কড়া উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত।সৌদির দাবি অনুযায়ী, হাউথিরাই ওই ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। গত প্রায় এক দশকের মধ্যে মক্কার পবিত্র তীর্থক্ষেত্রকে ঘিরে এমন হামলার অভিযোগ এই প্রথম বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ড্রোনটি মক্কার ঠিক কতটা কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে সৌদির তরফে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানানো হয়নি।সৌদির এই দাবি অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছে হাউথিরা। বুধবার গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল সৌদির তেলের ভাণ্ডার এবং সামরিক ঘাঁটি। তাঁর বক্তব্য, সেই লক্ষ্যগুলি মক্কা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। মক্কাকে নিশানা করে হামলার যে দাবি সৌদি করেছে, তা মিথ্যা বলেও পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।এর ফলে মক্কার কাছে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সৌদি বলছে, হাউথির ড্রোন মক্কার দিকে এগিয়েছিল এবং আকাশেই সেটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্য দিকে হাউথির দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল মক্কা থেকে দূরে সৌদির তেল ও সামরিক পরিকাঠামো।এই ঘটনার পর মক্কার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে মক্কার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে পবিত্র শহরের কাছাকাছি কোনও সামরিক হামলার অভিযোগ স্বাভাবিক ভাবেই আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।মক্কার কাছে ড্রোন হামলার অভিযোগের তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, মক্কার কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় ভারত উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা এবং সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক পরিকাঠামোকে বিপদের মধ্যে ফেলার যে কোনও প্রচেষ্টার কড়া নিন্দা করেছে ভারত।রণধীর আরও বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে মক্কার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই কারণে মক্কার কাছাকাছি হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরে আসার আশাও প্রকাশ করেছে ভারত।অন্য দিকে, হাউথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের মাত্রাও ক্রমশ বাড়ছে। সৌদির পশ্চিম উপকূল লক্ষ্য করে হাউথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যেই মক্কার কাছে ড্রোন হামলার দাবি নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।তবে মক্কার কাছে ড্রোনটি ঠিক কোথা থেকে এসেছিল, তার লক্ষ্য কী ছিল এবং সৌদির দাবি অনুযায়ী সেটি কতটা কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। ফলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে সৌদি আরব ও হাউথিদের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই নজর রয়েছে পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

প্রতীক না মিললে প্রচারেই যাবেন না মমতা? নন্দীগ্রাম-রেজিনগর ভোটের আগে বড় বার্তা

পুজোর আগেই রাজ্যে ফের ভোটের দামামা। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের প্রতীক-জট নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। তার মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।সূত্রের খবর, দলীয় বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রচারে যাবেন না। যদিও এটি এখনও তাঁর প্রকাশ্য ঘোষণা নয়। ফলে উপনির্বাচনের প্রচারে মমতার ভূমিকা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দুই শিবির আলাদা ভাবে প্রার্থী দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও দুই কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে একই দলের দুই শিবিরের প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।প্রতীক নিয়ে এই টানাপড়েনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দুই পক্ষের একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। কমিশনের কাছে দুই শিবিরই নিজেদের দাবি ও নথি জমা দিয়েছে। কিন্তু জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে মনোনয়ন পর্বের পাশাপাশি প্রতীক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।এই পরিস্থিতিতে রেজিনগরের কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে জট না কাটলে মমতা প্রচারে আসবেন না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। এই বক্তব্যের পরই মমতার প্রচার নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘিরে একাধিক পরিচিত নেতাকে দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। নন্দীগ্রামে ওই শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এতেসামূল হকের মনোনয়ন কর্মসূচিতেও দলীয় নেতাদের উপস্থিতি ছিল। ফলে দুই শিবিরের সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।কালীঘাট শিবিরের নন্দীগ্রাম প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র মনোনয়ন ঘিরে জেলার নেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক ভাবে কম ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। তবে এই উপস্থিতির ভিত্তিতে দলের চূড়ান্ত প্রচার কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।এরই মধ্যে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে বিজেপিও প্রচার শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থীর হয়ে মনোনয়ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তিনি উপনির্বাচনে তৃণমূলের ফল নিয়ে নিজের দাবি জানিয়েছেন। তবে সেটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।নন্দীগ্রাম আসনটি বরাবরই রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর হাইভোল্টেজ লড়াই হয়েছিল। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়ে পরে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রেজিনগরেও একই ভাবে বিধায়ক পদ খালি হওয়ায় উপনির্বাচন হচ্ছে।এখন মূল নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। জোড়াফুল প্রতীক কোন শিবির পাবে, দুই পক্ষকে একই প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, নাকি অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবেতা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের লড়াইয়ের সমীকরণও বদলাতে পারে।সব মিলিয়ে ৬ অক্টোবরের ভোটের আগে তৃণমূলের প্রতীক-জট এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে নামা না-নামা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং দুই শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

‘রাক্ষুসে’ গঙ্গার গ্রাসে ভূতনি! ত্রাণের আশায় টিনের ডোঙা নিয়ে ছুটছেন বানভাসিরা

রাক্ষুসে গঙ্গার জলে কার্যত জলবন্দি মালদহের ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা। যেদিকে তাকানো যাচ্ছে, শুধু জল আর জল। কোথাও ঘরবাড়ি ডুবে গিয়েছে, কোথাও আবার বাড়ির একতলা পর্যন্ত জলমগ্ন। বহু পরিবার উঁচু রাস্তার ধারে কিংবা বাড়ির ছাদে ত্রিপল টাঙিয়ে দিন কাটাচ্ছে। খাবার বলতে ভরসা ত্রাণের সামগ্রী। আর সেই ত্রাণ আসার খবর পেলেই টিনের তৈরি ডোঙা নিয়ে ছুটে আসছেন বানভাসি মানুষজন।বুধবার ভূতনি সেতুর কাছে ত্রাণ পৌঁছনোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দূরদূরান্তের জলবন্দি এলাকা থেকে ডোঙা নিয়ে ছুটে আসেন বহু মানুষ। মহিলা এবং শিশুরাও সেই ভিড়ে ছিলেন। চিঁড়ে, গুড়ের মতো শুকনো খাবার সংগ্রহের জন্য জল পেরিয়ে ভূতনি সেতুর কাছে পৌঁছন তাঁরা। ত্রাণ নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছতেই জলবন্দি এলাকার মানুষ ডোঙা নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসেন।মালদহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মতো ত্রাণ নিয়ে বড় ধরনের কাড়াকাড়ির পরিস্থিতি কোথাও তৈরি হয়নি। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে নৌকার সাহায্যেই দুর্গত এলাকায় পৌঁছতে হচ্ছে প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে।জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বানভাসি এলাকায় ১১টি ত্রাণশিবির এবং ১৫টি লঙ্গরখানা চালু করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে একশোর বেশি নৌকা কাজে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও উদ্ধার ও ত্রাণকাজে মোতায়েন করা হয়েছে।মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, ত্রাণ এবং পানীয় জলের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশন, রেডক্রস এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দূরবর্তী গ্রামগুলিতে ত্রাণ পৌঁছনোর কাজ আরও দ্রুত করতে উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে বিশেষ ত্রাণ দফতর চালু করেছে জেলা প্রশাসন।তবে দুর্গতদের একাংশের অভিযোগ, প্রত্যন্ত এলাকার সব জায়গায় এখনও নিয়মিত ত্রাণ পৌঁছচ্ছে না। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বিধায়ক, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে জলবন্দি মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। শুকনো খাবার এবং ওষুধও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।মালদহের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিও ত্রাণকাজে এগিয়ে এসেছে। জেলা প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চাল, ডাল, চিঁড়ে, মুড়ি, পানীয় জল এবং মশারি-সহ বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তিনটি বড় ট্রাক মানিকচকে পাঠানো হয়েছে।বন্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের উদ্ধারে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জলবন্দি এলাকা থেকে ১৮০ জনেরও বেশি অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ভূতনি থানার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। কিন্তু তাতে মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। এখনও প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ বন্যার জলে আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বহু গ্রাম জলবন্দি। কোথাও ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। আবার কোথাও বাড়ির একতলা পর্যন্ত জলে ডুবে গিয়েছে।উঁচু জায়গা এবং বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বহু পরিবার। দুর্গত মানুষের সঙ্গে দেখা করতে নিয়মিত এলাকায় ঘুরছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। সিভিল ডিফেন্সের দুই আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং ত্রাণ ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে কি না, তা খোঁজ নেন। কয়েকটি এলাকায় বানভাসিরা ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগও জানিয়েছেন। দ্রুত তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক।সব মিলিয়ে ভূতনির বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও জলযন্ত্রণা এখনও কাটেনি। ঘরবাড়ি হারিয়ে উঁচু রাস্তা ও ছাদে আশ্রয় নেওয়া মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় ভরসা ত্রাণ। আর সেই ত্রাণের আশাতেই জল পেরিয়ে ডোঙা নিয়ে ছুটছেন ভূতনির বানভাসিরা।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

মমতার সেই মন্তব্য নিয়ে হাই কোর্টে মামলা, বুধবার এল বড় রায়! কী বলল আদালত?

গত ২ জুন ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের একটি ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বুধবার সেই মামলাই খারিজ করে দিল হাই কোর্ট।মামলাটি শুনেছিল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানিতে মমতার মন্তব্য নিয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল আদালত। বুধবার সেই রিপোর্ট আদালতে জমা দেয় রাজ্য। রাজ্যের রিপোর্টে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই মন্তব্যে কোনও আদালতগ্রাহ্য অপরাধ সংঘটিত হয়নি। এরপরই মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত।গত ২ জুন ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের একটি ঘটনা প্রসঙ্গে বক্তব্য রেখেছিলেন মমতা। তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি। তবে তাঁর মন্তব্য বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করেছিল বলে অনেকে মনে করেছিলেন। সেই মন্তব্য নিয়েই কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন অভ্রতনু সরকার।মামলাটি আদালতে ওঠার পর শুরু থেকেই এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আগের শুনানিতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছিল, কোনও রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য নিয়ে এই ধরনের মামলা কী ভাবে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা যায়। আদালত জনস্বার্থ মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।এর পরেই মমতার মন্তব্য নিয়ে রাজ্যের রিপোর্ট চায় হাই কোর্ট। বুধবার সেই রিপোর্ট জমা পড়ে। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, ওই মন্তব্যের মধ্যে এমন কোনও বিষয় পাওয়া যায়নি, যা আদালতগ্রাহ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। রাজ্যের এই রিপোর্টের পরই প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।মামলাটি খারিজ হওয়ার ফলে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে করা মন্তব্যকে ঘিরে দায়ের হওয়া এই জনস্বার্থ মামলার আইনি পর্ব আপাতত শেষ হল। তবে ওই মন্তব্য ঘিরে যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সেই সময় থেকেই আলোচনা চলছিল।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal